ঢাকা , শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫ , ১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাসনাত আব্দুল্লাহ

নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের মাটিতে হবে না

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | চ্যানেল ইউ টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৬-০১-২০২৫ ০৮:০৩:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০১-২০২৫ ০৯:৪৭:০১ অপরাহ্ন
নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের মাটিতে হবে না ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের মুক্তমঞ্চে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ, সার্জিসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আর কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের মাটিতে হতে দেওয়া হবে না। 

আজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের মুক্তমঞ্চে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ এ কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগে ঢাকার মসনদে কে বসবে তা নির্ধারণ হতো দিল্লি থেকে। এখন থেকে ঢাকার মসনদে কে বসবে তা নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ। আপনারা কেউ দিল্লিমুখী না হয়ে দেশমুখী হন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি এখন থেকে হবে চোখে চোখ রেখে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে। ‌

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণ এবং জুলাই বিপ্লবের ঘোষণায় জন-আকাঙ্ক্ষার অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ফরিদপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ সমাবেশের আয়োজন করে। 

এর আগে বিকেল ৪টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আব্দল্লাহ, সারজিস আলম, হাসিবুল ইসলামসহ ছাত্রনেতারা। 

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, এই সরকার ৮ আগস্ট ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো বিচার কিন্তু আমরা দেখতে পাইনি। ২০০৯ সালে পিলখানার যে হত্যাকাণ্ড সে হত্যার বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। ২০১৪ সালের স্বপ্না হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যে কারচুপির নির্বাচন হয়েছিল সে নির্বাচনের কোনো বিচার এ পর্যন্ত হয়নি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই সব বিচার অবশ্যই দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে।

এখন পর্যন্ত আমাদের এই বিপ্লবকে অনেকেই মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কদিন পরপর বিচার বিভাগে ক্লু করা হয়, আনসারে বিদ্রোহ হয়, পুলিশে ক্লু করা হয়, সচিবালয়ে আগুন লাগানো হয়। আমরা আপনাদের বলতে চাই, আপনারা রিয়েলিটি মেনে নেন। আপনাদের খুনি শেখ হাসিনা কোনো দিনই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবে না। 

সমাবেশে আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, আমাদের সামনে সব শহীদ পরিবার রয়েছে। সেসব শহীদ পরিবারের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিচারের জন্য আর্তনাদ করছে। আমরা আমাদের এই বিচারগুলো চাই। ওই খুনি হাসিনা অবশ্যই চট করে বাংলাদেশে আসবে, এসে সরাসরি ওই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে। এরপর বিচারের কাঠগড়ায় থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াবে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের এই বাংলাদেশে অবশ্যই যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন হবে। কিন্তু তার পূর্বে এই খুনি হাসিনা আমাদের যে সিস্টেমগুলোকে ধ্বংস করেছে সেই সিস্টেমগুলোকে সংস্কার করতে হবে। আমাদের বাংলাদেশ কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা চোখে চোখ রেখে পররাষ্ট্র নীতি ঠিক করব। কোনো বড় রাষ্ট্র যদি আমাদের ছোট করে পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করার চেষ্টা করে আমরা সেই পররাষ্ট্রনীতি ছুড়ে ফেলে দিব। 

সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসিবুল ইসলাম, কাজী রিয়াজ, আশসেফা খাতুন, রিফাত রশিদ প্রমুখ।

সমাবেশের শুরুতে ফরিদপুরের নিহত আট শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা। 

জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল এসে যোগ দেয় সমাবেশে। সমাবেশের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUPload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ